চারি তরীকার শাজরা

3521 Visited

চিশতিয়া তরীকার শাজরা
১। হযরত সাইয়্যেদুল আম্বিয়া খাতেমুন্নাবিয়্যীন শাফিউল মুজনিবীন রহমাতুলি­ল আলামীন আহমদ মুজতবা মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। 
২। আমীরুল মো’মেনীন সাইয়েদিনা হযরত আলী (রাদিঃ)।
৩। খাইরুত্তাবেঈন হযরত হাসান বসরী (রহঃ)। 
৪। হযরত খাজা আঃ ওয়াহেদ বিন জায়েদ (রহঃ)। 
৫। হযরত খাজা ফোজায়েল (রহঃ)।
৬। হযরত খাজা সুলতানুল আ’রেফীন ইব্রাহীম আদহাম (রহঃ)।
৭। হযরত খাজা হোযায়ফা মারয়াসী (রহঃ)।
৮। হযরত খাজা আমীন উদ্দীন হোবায়রা বছরী (রহঃ)।
৯। হযরত খাজা আবু ইব্রাহীম এছহাক আলাউদ্দীন নূরী (রহঃ)।
১০। হযরত খাজা আবু এছহাক শামী (রহঃ)।
১১। হযরত খাজা আবু আহমদ আবদাল চিশতী (রহঃ)।
১২। হযরত খাজা আবু মোহাম্মদ আবদাল চিশতী (রহঃ)।
১৩। হযরত খাজা নাছের উদ্দীন আবু ইউসুফ চিশতী (রহঃ)।
১৪। হযরত খাজা কুতুবুদ্দীন মউদূদ চিশতী (রহঃ)।
১৫। হযরত খাজা শরীফ জানদানী (রহঃ)।
১৬। হযরত খাজা ওসমান হারুনী (রহঃ)।
১৭। হযরত সুলতানুল হিন্দ খাজা গরীবে নেওয়াজ মুঈনুদ্দীন চিশতী ছঞ্জরী (রহঃ)।
১৮। হযরত খাজা কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাকী (রহঃ)।
১৯। হযরত খাজা শেখ ফরীদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জেশকর (রহঃ)।
২০। সুলতানুল আউলিয়া হযরত খাজা নিজামুদ্দীন (রহঃ)।
২১। হযরত শেখ সিরাজ ওসমান আওধী (রহঃ)।
২২। হযরত শেখ আলাউল হক বাংগালী (রহঃ)।
২৩। হযরত শেখ খাজা নূর কুতুবুল আলম (রহঃ)।
২৪। হযরত শেখ হেছামুদ্দীন মানিকপুরী (রহঃ)।
২৫। হযরত  সাইয়্যেদ রাজী হামেদ শাহ্ (রহঃ)।
২৬। হযরত হাসান বিন তাহের (রহঃ)।
২৭। হযরত শেখ কাজী খান ইউসুফ নাচেহী (রহঃ)।
২৮। হযরত শেখ নাজমুল হক ছিনহুভী (রহঃ)।
২৯। হযরত শেখ আঃ আজীজ (রহঃ)।
৩০।  হযরত শেখ কুতুবে আলম (রহঃ)।
৩১। হযরত মাওলানা শাহ্ রফী উদ্দীন (রহঃ)।
৩২। হযরত মাওলানা শেখ আঃ রহীম মোহাদ্দেছে দেহলভী (রহঃ)।
৩৩। হযরত মাওলানা শাহ্  ওয়ালীউল­াহ মোহাদ্দেছে দেহলভী (রহঃ)।
৩৪। হযরত মাওলানা শাহ্ আঃ আজীজ মোহাদ্দেছে দেহলভী (রহঃ)।
৩৫। হযরত মাওলানা শাহ্ সাইয়্যেদ আহমদ শহীদ বেরলভী (রহঃ)।
৩৬। হযরত মাওলানা শাহ্ সূফী নূর মোহাম্মদ নিজামপুরী (রহঃ)।
৩৭। হযরত মাওলানা শাহ্ সূফী ফতেহ আলী ওয়ায়সী (রহঃ)।
৩৮। মোজাদ্দেদে যমান হযরত মাওলানা শাহ্ সূফী হাজী আব্দুল­াহ আল মা’রূফ মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দীকী (রহঃ)।
৩৯। হযরত মাওলানা শাহ্ সূফী নেছারুদ্দীন আহমদ (রহঃ)।
৪০। হযরত মাওলানা মোর্শেদানা ওয়ালেদ মোহ্তারাম শাহ্ সূফী আবু জা’ফর মোহাম্মদ ছালেহ (রহঃ)।
৪১। আহকার  শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ।


কাদেরিয়া তরীকার শাজরা
১। সাইয়েদুল বাশার, আশরাফুল মাখলুকাত হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা আহমদ মুজতবা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। 
২। আমীরুল মো’মেনীন সাইয়েদিনা হযরত আলী (রাঃ)।
৩। সাইয়েদিশ শুহাদা হযরত ইমাম হোসাইন (রাঃ)। 
৪। হযরত ইমাম জয়নুল আবেদীন (রহঃ)।
৫। হযরত ইমাম বাকের (রহঃ)।
৬। হযরত ইমাম  জাফর ছাদেক (রহঃ)।
৭। হযরত ইমাম মূসা কাজেম (রহঃ)।
৮। হযরত ইমাম  মূসা আলী রেজা (রহঃ)।
৯। হযরত খাজা মারূফ করখী (রহঃ)।
১০। হযরত খাজা আবুল হোসাইন ছররী ছকতী (রহঃ)।
১১। হযরত  সাইয়েদ জোনায়েদ বাগদাদী (রহঃ)।
১২। হযরত আবু বকর মোহাম্মদ বিন দিলফ  বিন মোঃ শিবলী (রহঃ)।
১৩। হযরত শেখ আঃ আজীজ বিন হারেছ তামিমী (রহঃ)।
১৪। হযরত শেখ আবুল ফারাহ মোঃ তারতুছী (রহঃ)।
১৫। হযরত শেখ আবুল হাসান হেকারী (রহঃ)।
১৬। হযরত শেখ আবু সাঈদ মাখজুমী (রহঃ)।
১৭। মাহবুবে ছোবহানী কুতুবে রব্বানী, পীরানে পীর দস্তগীর গাউসূল আজম হযরত সাইয়েদ মুহিউদ্দীন আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ)।
১৮। হযরত সাইয়েদ আঃ রাজ্জাক (রহঃ)।
১৯। হযরত সাইয়েদ শরফুদ্দীন কাত্তাল (রহঃ)।
২০। হযরত সাইয়েদ আঃ ওহ্হাব (রহঃ)।
২১। হযরত সাইয়েদ বাহ্উাদ্দীন (রহঃ)।
২২।  হযরত সাইয়েদ আকীল (রহঃ)।
২৩। হযরত সাইয়েদ শামসুদ্দীন চাহরায়ী (রহঃ)।
২৪।  হযরত সাইয়েদ গাদা রহমান আউয়াল (রহঃ)।
২৫। হযরত সাইয়েদ শামসুদ্দীন আরেফ (রহঃ)।
২৬। হযরত সাইয়েদ  গাদা রহমান ছানী (রহঃ)।
২৭। হযরত শাহ  ফোজাইল (রহঃ)।
২৮। হযরত শাহ্ কামাল কেতিহলী (রহঃ)।
২৯। হযরত মখদুম আঃ আহাদ ছরহিন্দী (রহঃ)।
৩০।হযরত ইমামে রব্বানী কাইউমে জামান মোজাদ্দিদে আলফেছানী শেখ আহমদ ফারুকী ছরহিন্দী (রহঃ)।
৩১। হযরত শেখ আদম বিননূরী (রহঃ)।
৩২। হযরত সাইয়েদ আব্দুল­াহ আকবর আবাদী (রহঃ)।
৩৩। হযরত মাওলানা শেখ আঃ রহীম মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহঃ)।
৩৪। হযরত মাওলানা শাহ ওয়ালী উল­াহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহঃ)।
৩৫। হযরত মাওলানা শাহ আঃ আজীজ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহঃ)।
৩৬। হযরত মাওলানা শাহ সাইয়েদ আহমদ শহীদ বেরলভী (রহঃ)।
৩৭। হযরত মাওলানা শাহ সূফী নূর মোহাম্মদ নিজামপুরী (রহঃ)।
৩৮। হযরত মাওলানা শাহ সূফী ফতেহ আলী ওয়ায়সী (রহঃ)।
৩৯।আমীরুশ শরীয়ত হযরত মাওলানা শাহ সূফী হাজী আব্দুল­াহ আল- মা’রূফ মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দীকী (রহঃ)।
৪০।মুহিয়ে সুন্নাত আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ সূফী নেছারুদ্দীন আহমদ (রহঃ)।
৪১।আলহাজ্ব হযরত মাওলানা  মোর্শেদানা ওয়ালেদ মোহতারাম শাহ সূফী আবু জা’ফর মোহাম্মদ ছালেহ (রহঃ)।
৪২। আহ্কার শাহ মোহাম্মদ মোহেব্বুল­াহ। 

নকশবন্দিয়া-মোজাদ্দেদিয়া তরীকার শাজরা
১। হযরত সাইয়েদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন মাহবুবে রব্বিল আ’লামীন আহমদ মুজতবা মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ইনি পয়গাম্বরে জামান, আশরাফুল মাখলুকাত ও খাতেমুল মুরসালীন ওয়া-রাহমাতুলি­ল আলামীন তিনি ৫৭০ খ্রীষ্টাব্দে পবিত্র মক্কা শরীফে তাওয়াল­াদ ফরমান এবং সারা জাহানে ইসলামের তাবলীগ করতঃ ৬৩ বৎসর বয়সে পবিত্র মদীনা শরীফে ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখে রেহলৎ ফরমান। সকল তরীকার শাজরার মূল এখানে আসিয়া মিলিত হইয়াছে।
২। আমীরুল মো’মেনীন খলীফাতুল মুসলেমীন সাইয়েদিনা হযরত আবু বকর ছিদ্দিক (রাঃ)- ইন্তেকাল ২১শে জমাদিউচ্ছানি, ১০ম হিজরী, মাজার মদীনা মোনাওয়ারায়।
৩। হযরত সালমান ফারছী (রাঃ)- ২৫০ বৎসর বয়সে ৩৩ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। মাজার, ইরাকে। 
৪। হযরত কাছেম বিন মোহাম্মদ বিন আবু বকর (রাঃ)- ইনি রইসুল ফোকাহা ছিলেন। ৭০ বৎসর বয়সে ১০৬ বা ১০৭ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। মাজার, মক্কা ও মদীনার মধ্যে। 
৫। হযরত ইমাম জা’ফর ছাদেক (রহঃ)- জন্ম ৮০ হিজরী। ১৭ ই রবিউল আউয়াল কিম্বা ৮ই  রমজান, ইন্তেকাল ১৪৮ হিজরী, ১৫ই রজব। মাজার, জান্নাতুল বাকিয়া, মদীনা শরীফ।
৬। হযরত ইমাম মুছা কাজেম (রহঃ)- ইনি হযরত ইমাম জা’ফর ছাদেক (রহঃ)-এর পুত্র ও মুরীদ। জন্ম ১২৮ হিজরী, ৭ই ছফর ইন্তেকাল ১৮৩ হিজরী, ২৫ শে রজব। মাজার, বাগদাদ শরীফ।
 ৭। হযরত ইমাম মুসা আলী রেজা (রহঃ)- ইনি হযরত ইমাম মুছা কাজেমের পুত্র ও মুরীদ। জন্মস্থান মদীনা শরীফ। জন্ম ১৫৩ হিজরী, ইন্তেকাল ২০৩ হিজরী। 
৮। হযরত শেখ মারূফ কারখী (রহঃ)- ইনি ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর শাগরেদ ছিলেন। ২০০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। মাজার, বাগদাদ শরীফ। 
৯। হযরত শেখ আবুল হাসান ছররী ছকতি (রহঃ)- ৯০ বৎসর বয়সে ২৫৬ হিজরী, ৩রা রমজান ইন্তেকাল করেন। মাজার, বাগদাদ শরীফ। 
১০। হযরত জোনায়েদ বাগদাদী (রহঃ)- জন্ম ২৭শে রজব, ২৯৭ হিজরীতে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন।
১১। হযরত  খাজা আবু আলী রোদবারী (রহঃ)।
১২। হযরত শেখ আবুল কাছেম নছরাবাদী (রহঃ)- জন্ম নেশাপুর, ৩৫৭ হিজরী কিম্বা ৩৭২ হিজরী। মক্কা শরীফে ইন্তেকাল করেন।
১৩। হযরত শেখ আবু আলী দাক্কাক (রহঃ)- ৪০৫ হিজরী, জিলকদ মাসে নেশাপুরে ইন্তেকাল করেন।
১৪। হযরত ইমাম আবুল কাছেম কোশায়রী (রহঃ)- জন্ম ৩৭৬ হিজরী,  ইন্তেকাল ৪৬৫ হিজরী নেশাপুর। 
১৫। হযরত খাজা আবু আলী ফারমুদী (রহঃ)।
১৬। হযরত খাজা আবু ইউসুফ হামদানী (রহঃ)- ৪৪০ হিজরীতে হামদান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। 
১৭। হযরত খাজা  আব্দুল খালেক গেজদাওয়ানী  (রহঃ)- রবিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন।
১৮। হযরত খাজা আরিফ রেউগিরী  (রহঃ)- বোখারায় রেউগির গ্রামে জন্ম, ইন্তেকাল ৬১৬ হিজরী, ১লা শাওয়াল। 
১৯। হযরত খাজা মাহমুদ আঞ্জীর ফাগনুভী (রহঃ)- ৭১৬হিঃ, ৬ই রবিউল আউয়াল ইন্তেকাল করেন।
২০। হযরত খাজা  আজিজানে আলী রামিতনী (রহঃ)- বোখারার রামিতন গ্রামে ৬৯১ হিঃ জন্ম ও ১৩০ বৎসর বয়সে ৮২১ হিঃ ২৮ শে রমজান ইন্তেকাল করেন। 
২১। হযরত খাজা মোহাম্মদ বাবা শাম্মাছী (রহঃ)- ৭৫৫ হিঃ ইন্তেকাল করেন। 
২২। হযরত খাজা সাইয়েদ আমীর কুলাল (রহঃ)- জন্ম ও মাজার রামিতনের নিকটবর্তী বোখারা, ৭৭২হিঃ ১৫ই জমাদিউচ্ছানী ইন্তেকাল । ২০ বৎসর পীরের খেদমত করেন। 
২৩। হযরত খাজায়ে খাজেগান ইমামুশ শরীয়ত অত্-তরীকত বাহাউদ্দিন নকশবন্দ বোখারী (রহঃ)- তাহার প্রকৃত নাম মোহাম্মদ ইবনে মোহাম্মদ আল বোখারী। জন্ম ৭১৮ হিজরী, মোহার্রম মাস। ৭৯১ হিঃ ৩রা রবিউল আউয়াল ইনতেকাল। মাজার, বোখারা হইতে তিন মাইল দূরে কছরাই আরাকান গ্রামে। ইনি নক্শবন্দিয়া তরীকার ইমাম। 
২৪। হযরত খাজা আলাউদ্দীন আত্তার (রহঃ)।
২৫। হযরত মাওলানা ইয়াকুব চরখী (রহঃ)- জন্মস্থান কাবুল গজনীর মধ্যবর্তী চখর গ্রামে। ইন্তেকাল ৮৫১ হিজরী। 
২৬। হযরত  মাওলানা খাজা ওবায়দুল­াহ আহরার (রহঃ)- তাশখন্দের নিকটবর্তী বাগিস্থান ৮০৬ হিজরী রমজান মাসে জন্ম  এবং ৮৯৫ হিজরী ২৯ শে রবিউল আউয়াল ইনতেকাল। মাজার শরীফ, ছমরকন্দ। 
২৭। হযরত মাওলানা মোহাম্মাদ জাহেদ (রহঃ)- ৯৬৬ হিজরী ১লা রবিউল আউয়াল ইন্তেকাল করেন। মাজার, ওয়াকশ নামক  স্থানে।
২৮। হযরত খাজা দরবেশ মোহাম্মদ (রহঃ)- ইনি ৯৭০ হিজরী ১৯ শে মোহাররাম ইনতেকাল করেন।  
২৯। হযরত মাওলানা খাজেগী আমকাঙ্গী (রহঃ)- জন্ম ৯১৮ হিজরী ইন্তেকাল ১০০৮ হিজরী ২২শে শাবান। মাজার, আমকাঙ গ্রামে। তিনি পিতার নিকট বয়াত হন। 
৩০। হযরত খাজা বাকী বিল­াহ (রহঃ)- জন্মস্থান কাবুল, দিল­ীতে বসতি। জন্ম ৯৭১ কিম্বা ৯৭২ হিজরী, ইন্তেকাল ১০১২ হিজরী ২৫শে জমাদিউচ্ছানী, মাজার, দিল­ী।
৩১। হযরত  ইমামে রব্বানী, মুজাদ্দিদে আলফেছানী পীরানে পীর শেখ আহমাদ ফারূকী ছরহিন্দী (রহঃ)- ইনি হযরত ওমর (রাঃ) এর বংশধর। এইজন্য তাহাকে ফারূকী বলা হয়। জন্ম ৯৭১ হিজরী ১৪ ই শাওয়াল। ইন্তেকাল ১০৩৪ হিজরী ৮ই ছফর। মাজার শরীফ, ছারহিন্দ। ইনি হযরত নবী করীম সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াসাল­াম এর হাজার বৎসর পরে দ্বীন ইসলামে নূতন জীবন দান করেন। এই জন্য উপাধি মুজাদ্দিদে আলফেছানী। 
৩২। হযরত শায়খ আদম বেন্নুরী (রহঃ)- জন্মস্থান বেন্নুর ১০৫৩ হিজরীতে মদীনা শরীফে ইন্তেকাল করেন।
৩৩। হযরত সাইয়েদ আব্দুল­াহ আকবরাবাদী (রহঃ)- তিনি আকবরাবাদ বা আগ্রার অধিবাসী ছিলেন। মাজার, যমুনা নদীর অপর পাড়ে।
৩৪। হযরত মাওলানা শেখ আব্দুর রহীম মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহঃ)- জন্ম দিল­ী, ১০৫৪ হিজরীর ইনি সুবিখ্যাত মুহাদ্দিস ছিলেন। ১১১৭ হিজরী ছফর মাসে ইন্তেকাল করেন।  ইনি চারি তরীকায় বিশেষ কামেল  হইয়া একাই চারি তরীকার তা’লীম দেওয়ার রীতি প্রবর্তন করেন। হযরত শাহ ওয়ালিউল­াহ মুহাদ্দিসে দেহলভী তাঁহার পুত্র। মাজার দিল­ী। 
৩৫। হযরত মাওলানা শাহ ওয়ালীউল­াহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহঃ)- জন্ম ১১১৪ হিজরী ৪ঠা শাওয়াল। ইনি বহুবিধ আরবী ও ফারছী কিতাবের রচয়িতা ও সর্ববিধ ইসলামী ধর্মশাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। তিনি পিতৃ গৌরব অর্জন করিয়া মুহাদ্দিস নামে খ্যাত হন। ইন্তেকাল ১১৭৬ হিজরী । তাঁহার পুত্র মাওলাানা শাহ আবদুল আজীজ দেহলবী। মাজার, দিল­ী।
৩৬। হযরত মাওলানা শাহ আবদুল আজীজ মুহাদ্দিছে দেহলবী (রহঃ)- জন্ম ১১৫৯ হিজরী। তিনিও পিতার নিকট সর্ববিধ বিদ্যা শিক্ষা করিয়া মুহাদ্দিছ নামে খ্যাত হন। হাদীছ ও তাফসীরের বহু কেতাব প্রণয়ন করেন। ইনতেকাল ১২৩৯ হিজরী, ৭ই শাওয়াল, মাজার দিল্লী
৩৭। হযরত মাওলানা শাহ সাইয়েদ আহমাদ শহীদ বেরলবী (রহঃ)- পাঞ্জাবের রাজা  রণজিৎ সিংহ মুসলমান ধর্মে হস্তক্ষেপ করতঃ অত্যাচার করায় ১২৪১ হিজরী ৭ই জমাদিউচ্ছানি তাহার বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেন। ১২৪৬ হিজরী ২৪শে জিলকদ বালাকোট শহরের নিকটবর্তী যুদ্ধক্ষেত্রে শহীদ হন।
৩৮। হযরত কুতুবুল আকতাব মাওলানা শাহ সূফী নূর মোহাম্মদ নিজামপুরী (রহঃ)- চট্টগ্রামের নিজামপুর নিবাসী। স্বীয় পীর হযরত সাইয়েদ আহমাদ বেরলভী (রহঃ) এর সহিত রণজিৎ সিংহের বিরুদ্ধে জেহাদে যোগদান করেন। প্রকাশ থাকে যে, হযরত মাওলানা শাহ কেরামত আলী জৌনপুরী ছাহেব (রহঃ) উক্ত সাইয়েদ ছাহেবের মুরীদ ও খলীফা ছিলেন। তিনি বাংলায় আসিয়া ইসলাম প্রচার করেন। জনাব সূফী ছাহেবের মাজার চট্টগ্রামের মিরেশ্বরাই থানার মলিয়াইস গ্রামে।

৩৯। হযরত কুতুবুল এরশাদ মাওলানা শাহ সূফী ফতেহ আলী ওয়ায়সী ছাহেব (রহঃ)- ইনি বৃটিশ আমলে সরকারী চাকুরী করিতেন। আরবী ও ফারছী ভাষায় বুৎপত্তি ও দিওয়ানে ওয়ায়ছী নামে কিতাবের রচয়িতা ছিলেন। তিনি খুব জবরদস্ত আলেম ছিলেন। ইনি হযরত রাসূল সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াসাল­াম হযরত মোজাদ্দেদে আলফেছানী (রহঃ), হযরত বাহাউদ্দিন নক্শবন্দ (রহঃ), গাওসুল আজম হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ), হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহঃ) ছাহেবানের মোবারক রূহ হইতে নেছবত ও ফায়েজ হাছিল করেন। তাঁহার জন্ম ১৮২৫ইং সনে। ৬১ বৎসর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকাল তারিখ ১২৯৩ বাংলা সনের ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৮৮৬ ইং সনের ৬ই ডিসেম্বর, ১৩০৪ হিজরী সনের ৮ই রবিউল আউয়াল রোজ রবিবার বিকাল ৪টায়। মাজার শরীফ কলিকাতা মানিকতলা। ইনি বাতেনীভাবে হামেশা হযরত রাসূল সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াসাল­াম এর জিয়ারত লাভ করিতেন। এই জন্য তাঁকে রাসূল নোমা বলা হইত। তাঁহার ফায়েজ খুব তাছির বিশিষ্ট ছিল।

৪০। হযরত মাওলানা শাহ সূফী হাজী আবদুল­াহ আল মা’রূফ মোহাম্মদ আবুবকর ছিদ্দীকী (রহঃ)- ইনি তাফসীর, হাদীস ও ফেকাহ শাস্ত্রে সনদপ্রাপ্ত অসাধারণ আলেম ছিলেন। ইনি মদীনা শরীফে মছনদে ইমাম আজম (রহঃ) এর ছনদ লাভ করিয়াছিলেন, ইহা তাঁহার একটি বিশেষ মর্যাদা। ইনি প্রসিদ্ধ চারি তরীকার অতি উচ্চ কামালাত বিশিষ্ট অলীয়ে জমান ছিলেন। তিনি মোজাদ্দিদে জমান বলিয়া সর্বত্র পরিচিত। ইনি হযরত আবুবকর ছিদ্দীক (রাঃ) এর বংশধর। তাঁহার ৭ম উর্ধতন পুরুষ হযরত মনসুর বাগদাদী (রহঃ) ফুরফুরা শরীফ আসিয়া বাসস্থান স্থির করেন। তাঁহার ফায়েজ সমগ্র বাংলা, আসাম ও হিন্দুস্থান এমনকি সুদূর হেজাজ পর্যন্ত পরিব্যপ্ত হইয়াছে। তাঁহার অগণিত খলীফা বেলায়েতের উচ্চ দরজা লাভ করিয়া সমগ্র বাংলা-আসামে দ্বীন ইসলাম জারী করিয়াছেন। আমীরোশ শরীয়তে বাংলা তাঁহার উপাধী। তিনি উক্ত চারি তরীকা ব্যতীত আরও বহু তরীকায় কামেল ছিলেন। ১২৬৩ হিজরীতে তিনি ফুরফুরা শরীফে জন্মগ্রহণ করেন। ৯৫ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকাল তারিখ ১৯৩৯ ইং সনের ১৭ই মার্চ, ১৩৫৮ হিজরী, ১৩৪৫ বাংলা সনের ৩রা চৈত্র রোজ শুক্রবার সোবহে ছাদেকের সময়। মাজার, ফুরফুরা শরীফ।

৪১। আলহাজ্জ হযরত মাওলানা শাহ্ সূফী নেছারুদ্দীন আহমদ ছাহেব (রহঃ) বরিশালী- ইনি ফুরফুরার মরহুম হযরত মোজাদ্দেদে জামান ছাহেবের অন্যতম প্রধান খলিফা এবং চারি তরীকার উচ্চ কামালিয়াত বিশিষ্ট পীর ও কোরআন হাদীস এবং ফেকাহ শাস্ত্রের গভীর জ্ঞান সম্পন্ন আলেম ছিলেন। তিনি পাক ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ প্রভাবের সহিত শরীয়ত ও মা’রেফাতের তা’লীম ও মাদ্রাসা সমূহ স্থাপন করিয়া দ্বীন ইসলামের নব জাগরণ আনয়ন করিয়াছেন। সুন্নাতে নববীর আদর্শে খাঁটি নায়েবে নবী গড়ে তোলার জন্য অর্থাৎ লেবাছ পোষাক, আমল আখলাক, তা’লীম-তরবিয়াত সর্ব ব্যাপারে রাসূলুল­াহ সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াসাল­াম এর আদর্শে আদর্শবান করার জন্য নিজ বাসস্থান ছারছীনা গ্রামে এক সর্বোচ্চ আরবী শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র দারুচ্ছুন্নাত আলিয়া নামে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করিয়া বরিশাল জিলার মাদ্রাসা শিক্ষার প্রথম সূত্রপাত করেন। এই মাদ্রাসা টাইটেল ক্লাশ পর্যন্ত সুনামের সাথে চলিতেছে। বাংলার মফস্বলে ইহাই সর্বপ্রথম কামিল (টাইটেল) মাদ্রাসা। তিনি বহু কেতাবাদী তাছনীফ করিয়া সাধারণের মধ্যে তাবলীগের ব্যবস্থা করিয়াছেন। তাঁহার বদৌলতে এতদ্দেশের বেদয়াতী দলসমূহ লোপ পাইয়াছে ও সুন্নাত তরীকার তোড়জোর এশায়াত হইয়াছে। তিনি সমাজ সেবামূলক বহু প্রতিষ্ঠানের প্রবর্তন করিয়া গিয়াছেন।
বিগত ১৩৫৮ সনের ১৭ই মাঘ মোতাবেক ৪ঠা জমাদিউল আউয়াল রোজ বৃহস্পতিবার রাত্র ৯-৫ মিনিটে, (১৩৭১ হিঃ ৯ইং ১/২/৫২তারিখে) ইন্তেকাল ফরমাইয়াছেন। ছারছীনা জামে মসজিদের উত্তর পার্শ্বে তাঁহার মাজার।

৪২। মুরশিদানা আলহাজ্জ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ সূফী আবু জা’ফর মোহাম্মদ ছালেহ (রহঃ)- ১৯১৫ ইসায়ী সনে পিরোজপুর জেলার ছারছীনা শরীফে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন হযরত মাওলানা নেছারুদ্দীন আহমদ (রহঃ) এর জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত জামেয়ায়ে ইসলামিয়া হইতে ফাজিল পাশ করিয়া সাহারানপুর মাজাহেরুল উলুম হইতে দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করেন। পাঠ্য অবস্থায়ই তিনি হযরত মাওলানা শাহ সূফী আবু বকর ছিদ্দীক ফুরফুরাবী (রহঃ) এর নিকট বয়াত গ্রহণ করিয়া ইলমে তাসাউফের তা’লীম নিতে থাকেন। তাঁর ইন্তেকালের পর তিনি পিতা হযরত মাওলানা নেছারুদ্দীন আহমদ (রহঃ) এর কাছে নিয়মিত ছবক মশ্ক করিয়া চারি তরীকায় কামালিয়াত অর্জন করেন। পিতার ইন্তেকালের পর তিনি তাঁহার স্থলাভিসিক্ত হইয়া দেশ ব্যাপী ইলমে শরীয়ত ও ইলমে মা’রেফতের শিক্ষা বিস্তারের কাজে আত্মনিয়োগ করেন।

তিনি ছিলেন ইসলামী পুনর্জাগরণের নকীব। তাঁহার দ্বীনী খেদমত ছিল বহুমুখী। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি বহু সংখ্যক দ্বীনী মাদ্রাসা ও তরীকতের খানকাহ প্রতিষ্ঠা করেন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় দ্বীনী জলসা করিয়া ওয়াজ নসীহতের মাধ্যমে লোকদের দ্বীনের পথে আহবান করেন। ‘তাবলীগ’ ইশায়াত পত্রিকাসহ বহু ধর্মীয় পুস্তক প্রকাশনার মাধ্যমেও তিনি ইসলামের খেদমত আঞ্জাম দেন। জমিয়াতে হিযবুল­াহ, জমিয়াতে উলামা সংগঠনের মাধ্যমে তিনি ইসলাহে কাওম ও ইসলাহে হুকুমতের প্রচেষ্টা চালান। উপমহাদেশের মুসলমানের জন্য পৃথক আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এবং সিলেট জেলাকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ভূক্ত করার লক্ষ্যে রেফারেন্ডামে তিনি অমূল্য অবদান রাখেন। তিনি ছিলেন নির্ভীক মুজাহিদ। শাহ ওয়ালী উল্লাহ ও সৈয়দ আহমদ বেরলভী (রহঃ) সংস্কারও জিহাদী আন্দোলনের তিনি সার্থক উত্তরসুরী। তাবলীগ ইশায়াতের কাজেই তিনি সমগ্র জীবন অতিবাহিত করিয়াছেন। তাবলীগী সফর অবস্থায়ই তিনি জ্বরে আক্রান্ত হইয়া চিকিৎসার্থে ঢাকায় আনিত হন। অবস্থা দিন দিন অবনতি হইতে থাকে এবং কয়দিন পরেই তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁহার ইন্তেকালের তারিখ ১৯৯০ সালের ১৩ই ফেব্র“য়ারী, মোতাবেক ১লা ফাল্গুন, ১৩৯৬ বাংলা, ১৭ই রজব, ১৪১০ হিজরী রোজ মঙ্গলবার সময় বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিট। ছারছীনা শরীফে পিতার মাজারের পূর্ব পার্শ্বেই তাঁহাকে দাফন করা হইয়াছে।
৪৩। আহ্কার শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ, ছারছীনা শরীফ।
চারি তরীকার শাজরা- 

Notice

This website is still under development process. Stay with us, thank you for your patience and co-operation. 

 

ছারছীনা মাহফিল